সর্বশেষ :
partners logo
9:47 pm BdST, Tuesday, Feb 9, 2010
বিশ্লেষণ
মন্দা সামলে ইতিবাচক অর্থনীতির প্রধান সূচক
Sat, Nov 14th, 2009 12:22 pm BdST
Dial 2324 from your mobile for latest news  
আবদুর রহিম হারমাছি
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

ঢাকা, নভেম্বর ১৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থার মধ্যেও বিনিয়োগ ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান প্রধান সূচকগুলো ইতিবাচক।

বিশ্বমন্দার কারণে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের ধস নামবে বলে আশঙ্কা করা হলেও তেমনটি হয়নি। রপ্তানি আয় সামান্য কমলেও রেমিটেন্সের পরিমাণ প্রতি মাসেই বাড়ছে। রাজস্ব আদায়ও বাড়ছে। খাদ্য (চাল) আমদানি শুন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

এর ওপর সম্প্রতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এক হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। পুঁজিবাজার বেশ চাঙা হয়ে উঠেছে, মূল্যসূচক ও লেনদেনে রেকর্ডের পর রেকর্ড হচ্ছে। তবে বিনিয়োগ নিয়েও সরকারি ও বেসরকারী মহলে উদ্বেগের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি বাড়ার সতর্কতা রয়েছে।

এ অবস্থায় অর্থনীতিবিদরা সরকারকে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে বিনিয়োগ বাড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "একমাত্র বিনিয়োগ ছাড়া আমাদের অর্থনীতি বেশ মজবুত ভিত্তির ওপর রয়েছে। বিশ্বমন্দা আমাদের অর্থনীতিকে যতোটা আঘাত করবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল, এখন মনে হচ্ছে ততোটা হবে না।

তারপরও আমরা বিশ্ব পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি।"

মন্দার মধ্যে ভালো থাকা চারটি দেশের একটি বাংলাদেশ উল্লেখ করে গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সাহসিকতার সঙ্গে মন্দা মোকাবিলা করেছে। এখন পর্যন্ত এর বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়েনি।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেন, এক অর্থে মন্দা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলই বয়ে এনেছে। এ কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, সার, খাদ্যপণ্যসহ প্রায় সব জিনিসের দাম কমে এসেছিল। আমদানি ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ার এটাও অন্যতম কারণ।

তবে গত কয়েক মৌসুম ফসলের (ধান ও গম) বাম্পার ফলন আমদানি ব্যয় কমাতে যথেষ্ট সহায়তা করেছে বলেও জানান তিনি।

বিশ্বমন্দার প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়েনি বা পড়বে না-এ আত্মতুষ্টিতে না ভুগে দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারকে পরামর্শ দেন তিনি।

আকবর আলি আরও বলেন, "বিশ্বমন্দার প্রভাব কাটতে শুরু করায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান বাড়াতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দ্রব্যমূল্য অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে আমি মনে করি।"

<ন>রেকর্ড রিজার্ভ

গত চার মাসের বেশি সময় ধরে রিজার্ভ ৯০০ কোটি ডলারের ওপরে থাকার পর ১১ নভেম্বর তা দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক এক হাজার কোটি ডলার ছাড়ায়।

গত ৪ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৯৬০ কোটি (৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন) ডলার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের একটি ঋণ সহায়তা যোগ হওয়ায় ১১ অক্টোবর তা দাঁড়ায় ১০ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে রিজার্ভ প্রায় ১০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছিল। ওই সময় আকু'র (এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন) বিল পুরোটা পরিশোধ না করে অর্ধেক পরিশোধ করা হয়।

প্রতি দুই মাস পর পর আকুর দেনা পরিশোধ করতে হয়। ৫ নভেম্বর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের ৩০ কোটি ডলারের বেশি শোধ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

<ন>রেমিটেন্স বাড়ছেই

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স বাড়ছেই। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) দেশে ৩৬২ কোটি ডলারের বেশি রেমিটেন্স দেশে এসেছে। এটা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে এই চার মাসে ২৯৮ কোটি ৫২ লাখ ডলারের রেমিটেন্স দেশে এসেছিল।

বিশ্বমন্দা শুরু হওয়ার পর দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল(আইএমএফ) ও এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি)হ বিভিন্ন সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছিল যে, মন্দার কারণে বাংলাদেশে রেমিটেন্স আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসবে।

স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিপিডি ও (সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ) দেশের নামি-দামি বেশিরভাগ অর্থনীতিবিদ একই আশঙ্কা প্রকাশ করলেও তা ভুল প্রমাণ করেছেন প্রবাসীরা।

<ন>রপ্তানি আয় কমেছে

বিশ্বমন্দার কারণে রপ্তানি আয় কমলেও যতোটা কমবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল, ততোটা কমেনি। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ রপ্তানি আয় কমেছে।

পরে জুলাই-আগস্টে ২৮০ কোটি ৮২ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমান ছিল ২৯০ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।

<ন>আমদানি ব্যয় কমেছে

প্রতি মাসেই আমদানি ব্যয় কমছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় কমেছে ২০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আগস্ট মাসে আমদানি ব্যয় কমেছে ২৪ দশমিক ১১ শতাংশ।
তবে গত অর্থবছরে জুলাই-আগস্টে আগের অর্থবছরের একই সময়ে তুলনায় আমদানি ব্যয় বেড়েছিল ৩৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

<ন>তিন মাসে রাজস্ব আদায় বেড়েছে

এ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায় ৯ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়েছে। এসময়ে মোট ১২ হাজার ৪০৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে।

গত অর্থবছরে একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৩৬৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

<ন>চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত বাড়ছে

বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) জোরালোভাবে বাংলাদেশের অনুকূলে রয়েছে। এতে বড় ধরনের উদ্বৃত্তাবস্থা রয়েছে।

এ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) চলতি হিসাবে ১৩০ কোটি ৪০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল মাত্র ২৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

<ন>মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি

পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হয়। আগস্টে এটা ছিলো ৪ দশমিক ৬৯। জুন মাসে এ হার ছিল ২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জুলাই মাসে ছিল ৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

গত বছরের (২০০৮ সালের) জুন মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ দশমিক ০৬ শতাংশ। জুলাই মাসে ছিল ১০ দশমিক ৮২ শতাংশ। আর আগস্টে এ হার ছিল ১০ দশমিক ১১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যদ্রব্যসহ প্রায় সব ধরনের জিনিসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে (বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়) মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশে উঠে। এর পর আস্তে আস্তে কমে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে তা ৬ দশমিক ০৩ শতাংশে নেমে আসে।

চলতি বছরের (২০০৯ সাল) মার্চে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ০৪ শতাংশ। এর পর জুন মাসে তা আরও কমে ২ দশমিক ২৫ শতাংশে নেমে আসে।

<ন>চাঙা পুঁজিবাজার

বেশ কিছুদিন ধরে পুঁজিবাজারে বেশ চাঙাভাব বিরাজ করছে। প্রতি মাসেই নতুন নতুন শেয়ার বাজারে আসছে। আসছে নতুন বিনিয়োগকারীও।

দীর্ঘদিন পরে শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের এক ধরনের আস্থা ফিরে এসেছে বলে মনে হচ্ছে।

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ৩,৪০০ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। প্রতিদিনই প্রায় এক হাজার কোটি টাকার মতো লেনদেন হচ্ছে।

এদিকে বহুল প্রত্যাশিত গ্রামীণফোনের প্রাথমিক শেয়ারের (আইপিও) লটারি হয়েছে। ১৬ নভেম্বর থেকে দেশের দুই শেয়ার বাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জে গ্রামীণফোনের শেয়ারের আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরু হবে। শেয়ারটি নিয়ে দেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

<ন>বেড়েছে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ

এ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে মোট এক হাজার ৬৭৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল মাত্র ৫৭৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

<ন>কৃষিঋণ বিতরণ বাড়ছে

চলতি অর্থবছরের তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মোট এক হাজার ৯১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল এক হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এআরএইচ/এসএইচ/এমআই/১২১২ ঘ.
WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
 
 

Rank