ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র এখনও চলছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সবাই সজাগ না থাকলে পিলখানা বিদ্রোহের মতো ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। সংসদ নেতা হাসিনা বিরোধী দলকে সংসদে ফিরে আসার আহ্বানও জানান। শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সংসদে বলেন, "গণতন্ত্র ব্যাহত ও নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র চলছে। কোনও বিশেষ শ্রেণী যাতে গণতন্ত্র নস্যাত করতে না পারে, সে জন্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে।" জাতিসংঘ ঘোষিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস (১৫ সেপ্টেম্বর) উপলক্ষে সংসদে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পরের ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হাসিনা বলেন, "ওয়ান-ইলেভেনের পর বহু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচন না করলে প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হবে।,,,,, বিদেশে চলে যেতে হবে।" "নির্বাচনে দাঁড়ালে জীবনেও জামানত রক্ষা করতে পারবেন না- এ ধরনের লোকদের প্রার্থী করার জন্যও বলা হয়েছিল।" "যাদের একটি রাজনৈতিক দল গঠন করার ক্ষমতা নেই; যারা জনগণের রক্ত চুষে খায়; ঘুষখোর, সুদখোর; তারাই আবার ভালো মানুষ সেজে জনগণের নেতা হতে চায়। এবারই হতে চেয়েছিল, পারেনি। কিন্তু তাদের খায়েস এখনও মেটেনি।" হাসিনা বলেন, "কিন্তু এটাও ভুলে গেলে চলবে না, যারা জনগণের অধিকার খর্ব করে গেছে, তারা একটি বিশেষ শ্রেণী সৃষ্টি করে গেছে। তারা এখনও সক্রিয়। তারা প্রতি পদে পদে বাধা সৃষ্টি করছে। জনগণকে সজাগ থাকতে হবে, পুনরুদ্ধার করা গণতন্ত্র কেউ যেন আর হরণ করতে না পারে। "বিডিআরের মতো ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। গণতন্ত্র যেন সুসংহত থাকে এবং জনগণের ভোটের অধিকার যেন রক্ষা পায়, সে জন্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে।" প্রধানমন্ত্রী বলেন, "অনির্বাচিত সরকার দিয়েই যদি দেশের উন্নতি হতো, তাহলে বাংলাদেশ তো এতদিনে একটি উন্নত দেশে পরিণত হতো। কিন্তু তা তো হয়নি। উন্নয়নের জন্য গণতান্ত্রিক শাসনের কোনও বিকল্প নেই।" তিনি বলেন, "গণতন্ত্র কারও মালিকানাধীন বিষয় নয়। এটি জনগণের অধিকার। গত বছর যখন প্রথম দিবসটি পালন করা হয় তখন বাংলাদেশে পার্লামেন্ট বা গণতন্ত্র ছিল না। তখন বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিল একটি অনির্বাচিত সরকার। তারপরও তারা একটি নির্বাচন তারা দিয়ে গেছে, যে নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। দীর্ঘদিন পর দেশে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে।" তিনি বলেন, "মিলিটারি ডিক্টেটররা ক্ষমতা দখল করার কিছুদিনের মাথায় রাজনৈতিক দল গঠনের মাধ্যমে নিজেরা নেতা সাজে, একটি ধনিক শ্রেণী সৃষ্টি করে। একটি এলিট গ্র"প সৃষ্টির মাধ্যমে তারা সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়িয়েছে। জনগণের অধিকারের প্রতি তাদের কোনও ভ্র"ক্ষেপ ছিল না। "কিন্তু আমরা সব সময়ই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছি। তাই জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। এখন জনগণের আকাক্সক্ষা এবং তাদের কাছে দেওয়া আমাদের ওয়াদা পূরণ করতে হবে।" প্রধানমন্ত্রী বলেন, "চিনি নিয়ে একটা বিরাট ষড়যন্ত্র চলছে। চিনি থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম মজুদ করে দাম বাড়ানো হচ্ছে এবং সঙ্কট সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমি জনগণকে বলব, আপনাদের কাছে এ সংক্রান্ত কোনও তথ্য থাকলে আমাদের দেন। আমি আজকে (মঙ্গলবার) কিছু তথ্য পেয়েছি। ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।" সংসদ নেতার আগে আওয়ামী লীগ সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম সংসদে বলেন, "জাতিসংঘ তো সুন্দর কথাই বলছে। যে সব দেশে গণতন্ত্র থাকে না, গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়,,,, আমাদের দেশেও হয়েছিল, ওয়ান ইলেভেনে। তখন জাতিসংঘের ভূমিকা কী ছিল, তাও দেখা দরকার। "এ সংসদকে বানানো হয়েছিল কারাগার। এখানে কারজাই মার্কা শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তখন কী ভূমিকা ছিল জাতিসংঘের?" শেখ সেলিমের বক্তব্যের পর স্পিকার আবদুল হামিদ বলেন "ভাগ্য ভালো, তখন স্পিকারকে জেল সুপার করা হয়নি।" বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, "এ দিবস যখন প্রবর্তন করা হয় তখন বাংলাদেশে গণতন্ত্র ছিল না। একটি অগণতান্ত্রিক ও অনির্বাচিত সরকার তখন ক্ষমতায় ছিল। ১/১১ চক্রান্ত বাস্তবায়নের জাতিসংঘ অফিস ব্যবহার করা হয়েছিল।" আওয়ামী লীগের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "সংসদ কার্যকর হচ্ছে না। এজন্য জাতি প্রস্তুত ছিলো না। এজন্য যারা দায়ী ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।" সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হিংসা, বিদ্বেষ ও অতীত ভুলে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সংসদের হুইপ আব্দুস শহীদ, আওয়ামী লীগের ফজলে রাব্বী মিয়া, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু এবং পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসইউএম/এসএম/কেআরসি/এমআই/১৬০০ ঘ. |